তুমি আজ আলোকরেখায় ভাস্বর, রবি। তোমার সেই 'ভানু' নাম আজ সার্থক—তুমি মধ্যগগনের সূর্য। কিন্তু জানো তো, সূর্যের প্রখরতার পাশে ছায়ার কোনো স্থান থাকে না। আমি তো তোমার সেই দীর্ঘ ছায়াটুকু হয়েই থাকতে চেয়েছিলাম। জোড়াসাঁকোর এই অতিকায় অন্দরমহলে যখন তুমি প্রথম এসেছিলে, তখন তুমি ছিলে একলা এক বালক, আর আমি ছিলেম একলা এক বালিকা। আমাদের সেই একাকিত্বের সন্ধিতে যে মৈত্রী জন্মেছিল, তাকে কি কেবল 'বৌঠান' আর 'ঠাকুরপো'-র সম্পর্কে বাঁধা যায়? ছাদের কার্নিশে বসে সেই যে মেঘমল্লারের সুর ভাঁজা, কিংবা তোমার সদ্যোজাত কবিতাগুলোর ব্যবচ্ছেদ করা—সেদিন কি ঘুণাক্ষরেও বুঝেছিলেম যে একদিন তোমার প্রতিটি পংক্তি আমারই বুকের পাঁজর দিয়ে খোদাই করতে হবে? আমার অন্ধকার আকাশে তুমিই ছিলে একমাত্র ধ্রুবতারা। তুমি আমাকে 'হেকেটি'র তিলক পরিয়েছিলে; ভেবেছিলেম আমিই হব তোমার কাব্যলক্ষ্মী, তোমার সৃষ্টির উৎস। কিন্তু বিধাতা বড় নিষ্ঠুর, রবি। মৃণালিনীর আগমনে আমি আজ বুঝতে পারছি, আমার ছায়ার খেলা আজ ফুরিয়ে এসেছে। তোমার বসন্তের সমীরণে এখন নতুন ফুলের গন্ধ। তুমি এখন সেই পূর্ণিমার নিশীথিনীকে খুঁজে পেয়েছ, যে তো...