Skip to main content

টাঙানো ছবি


বঙ্গপোসাগরে আজকাল মাঝেমধ্যেই নিম্নচাপ সৃষ্টি হচ্ছে... যেন মানুষের মন এর সঙ্গে তার  একটা টান আছে.. আর সেই কারণেই আমার শহর প্রায়ই ভিজছে।
কার্নিশের দিকে তাকিয়ে দেখছি কেমন ছোট ছোট বিন্দু গুলো একে অপরকে আকর্ষণ করে এগিয়ে এসে এক হচ্ছে.. বড়ো হচ্ছে.. ভারী হচ্ছে, আর গ্রিল বেয়ে ধীরে ধীরে গড়িয়ে পড়ছে। আমি এই ক্ষুদ্র জিনিস গুলো বেশ মন দিয়ে দেখি।
অনেক মিল খুঁজে পাই আমাদের সঙ্গে ওদের।
দুটো মানুষ একে অপরকে ভালোবেসে সংসার বাধে, এক হয়, বাসা বানায়, বসবাস করে... আর ভারী হতে থাকে। দায়িত্ববোধে, উপার্জনের অংকে, একেওপরের ভালোমন্দ চিন্তায়. কখন যে তারাও গড়িয়ে পরে নিজেরাও বুঝতে পারেনা।
যদি একটু বিস্বাস, একটু ভরসা আর বেশ খানিকটা ভালোবাসা সেদিনও বাঁচিয়ে রাখতে পারতো তাহলে হয়তো মাধ্যকর্ষণ অতটা নাক গোলাতে পারতো না ওদের মধ্যে। সুসময় তো ভালোবাসা বয়েই আনে সঙ্গে, দুঃসময় যদি একটু গ্রিল আঁকড়ে বেঁচে থাকা যায় জমিয়ে রাখা ভালোবাসা গুলো নিংড়ে, তাহলে হয়তো কলেজ জীবনের উত্তর কলকাতার সরু গলি দিয়ে হেটে যাওয়া টা বা পকেটে কত খুচরো আছে সেই গুনে ফুচকা বা ৫ মিনিট দেখার জন্যে আধ ঘন্টা দাঁড়িয়ে থাকা, ওই সবগুলো আজও শুকিয়ে যেত না... বেঁচে থাকতো দেওয়ালে বাঁধানো ওই বিয়ের ছবির মধ্যেই।

- ঋতজ্যোতি রায় 

Comments

Popular posts from this blog

বাষ্প

ঐযে আকাশ মেঘ, ওকে আমি বলেছি আমার মনের কথা কিছু টা শুনে একপশলা কেঁদে চলে গেছে। এখন আকাশে ঝলমলে রোদ সোঁদা মাটির গন্ধে মিলচ্ছে কথা গুলো বাষ্প হয়ে।। -ঋতজ্যোতি রায় 

পুরোনো পৃথিবী থেকে।

  প্রিয়, ​শীত আজ আমাকে কোণঠাসা করে দিয়েছে... ভিড় থেকে অনেক দূরে, অন্ধকার রাস্তায় পাথরগুলো গুনতে গুনতে আজ তোমাকে লিখছি। মনে আছে আমাদের কথা? আমরা সেই সন্ধিক্ষণের সন্তান, সেই '৮৮-র প্রজন্ম, যারা ধুলোমাখা শৈশব আর মনের গহীনে এক অদ্ভুত নিস্তব্ধতা নিয়ে বড় হয়েছি। ​আমি সেই স্পর্শ টা মিস করি। খুব মিস করি সেই কঠিন সময়টাকে, যখন তোমাকে ভালোবাসা এত সহজ সুলভ ছিল না। ​মনে পড়ে সেই নোকিয়া ফোনের শক্ত রাবারের কি-প্যাড? একটা 'C' লেখার জন্য তিনবার বোতাম টিপতে হতো, শুধু তোমাকে এটুকু বোঝাতে যে আমি তোমার কথা ভাবছি। তখন তো আর 'অটোকারেক্ট' ছিল না যে আমার ব্যাকুলতাকে মসৃণ করে দেবে, ছিল না কোনো 'প্রেডিক্টিভ টেক্সট' যা বলার আগেই আমার মনের কথা বুঝে যাবে। প্রতিটি শব্দের পেছনে একটা যত্ন ছিল, একটা সময় খরচ হতো। প্রতিটি মেসেজে লেগে থাকত আঙুলের স্পর্শ। ​তখন হাতে কোনো ম্যাপ ছিল না, মাথার ওপর ছিল না কোনো স্যাটেলাইট। সম্বল শুধু আমরা একে অন্যকে। আমরা তো হারিয়ে যেতাম—শহরের অলিগলিতে, খোলা মাঠে, আড্ডায়, তর্কে। হারিয়ে যাওয়াটাই ছিল আমাদের বিলাসিতা। তখন আমরা একে অপরের চোখের দিকে তাকাতাম, কোনো স্ক্রিনের দ...

এপার ওপার

ভালোবাসার দিবস, সোমবার। সকাল থেকে অফিস এর কাজ গুলো পাতার ওপর ভারী বর্ষার জল বিন্দুর মতন আসছে আর ভার রাখতে না পেরে নুইয়ে পড়ছে একটু একটু করে।  মনের মধ্যে এক অবাস্তব, অসম্ভব ইচ্ছের জ্বালায় অস্বস্থিকর এক মেজাজ এর সৃষ্টি হয়েছে। ধরুন এক হেরে যাওয়া সৈনিক , শত্রুপক্ষের সীমান্তের গন্ডি তে আটকে পড়েছে এবং সে জানে আর কিছুক্ষন এর অপেক্ষা তারপরেই সে ধরা পড়বে শত্রুর হাতে এবং হয়তো শাহিদ হবে তার আপনজন দের শেষবারের মতন না দেখেই,অথচ মন কিছুতেই মানছে না এই পরাজয়, বলছে না আরেকটু লড়, আরো কিছুক্ষন, কিছুদিন বাঁচো। সে যে তখন কি করবে বুঝে পায়না... আত্মসমর্পণ না গা ঢাকা দেওয়া না বন্দুক উঠিয়ে অপেক্ষায় থাকা... তেমনি.. যে ভালোবাসা পাওয়া যাবেনা কোনোদিন নিজের মতন করে, এক প্রকার অসম্ভব, যদি না আল্লাহ তালা, ঈশ্বর, গড এনাদের মধ্যে কেউ কিছু গভীর শড়যন্ত্রের মাধ্যমে তা পাইয়ে দেন, তবে কেনোই বা ওনারা এত কষ্ট নেবেন একজন যেকোনো মানুষ এর জন্যে? সত্য ভালোবাসে আলো কে। সে আলোর রোজকার অবহেলা অনুভব করে নিজের মতন কোরে... আলোর রোজকার না পাওয়া গুলোকে পাইয়ে দিতে তার মন একপ্রকার দু-টুকরো হয়ে ছুটে যেতে চায় আলোর কাছে.. দুপু...