Skip to main content

ঘুম



বেশ কয়েক মাস হলো ঘুম আসতে অনেক দেরী করে। দেওয়ালে ঘোলাটে নীল আলোটা দেখলে আগে যেরকম একটা ঘোর আসতো এখন আর আসেনা... তবে আরাম আনে শরীরে..
ঘড়ি টাও আর টিকটিক করেনা। সেকেন্ড এর কাঁটা টা নতুন ঘড়ি তে শুধু নিঃশব্দে একটানা ঘুরে চলে।
কিছুক্ষন পরেই মনেহয় কান বন্ধ হয়ে আসছে.. পাখা টা চালাই ১ এ দিয়ে, শীতকাল তো.. পাখার ওই আওয়াজ টাই এখন ঘুম এর বন্ধু "synchronous sound" এর কাজ করে।
অনেকের কথা মাথায় ঘুরতে থাকে...
অফিস এর বস, মা আজ কি বলছিলো তখন, কিছু কি আশা করে এসেছিলো ! কাজের মধ্যে খেয়াল করিনি "এখন একটু যাও তো.. মিটিং চলছে " বলে দিয়েছিলাম। আচ্ছা পারমিতার একবারও একটা ফোন করি মনে হয়না? ভুল টা ওরি ছিল। আমার ভুল হলে যে ১০০০ বার ফোন করে ডিসটার্ব করতাম... ওরা কি ডিসটার্ব করতে চায়না কয়েকদিন এর আলাপ বলে.. Tinder এর বান্ধবী টির টেক্সট এর রেপ্লাই করা হয়নি.. থাক এখন অনেক রাত ভুল বুঝবে.. আর ঐযে আমার insta তে যে রোজ কেমন আছেন বলে..কাউকেই উত্তর দিনা, আনসোশ্যাল হয়ে পড়েছি বড্ডো। Matrimonial সাইট এ যারা "লেটস take our conversation forward" বলে রেখেছে তাদেরও ফোন করিনি.. করিনা, ওদের মা'র ফোন করাই বেটার..
যাকে ফোন করতাম(ওর নাম লিখবো না ওকে বেশ ভয় করে আমার ), ভেবেছিলাম আমরা বেশ একরকম, সে বলেছিলো আমি অনেকটা ভিনদেশী ফুলগাছ এর মতন, আমার অনেক যত্নের প্রয়োজন, ও ওতো যত্ন করতে গেলে নিজের যত্নই করতে পারবে না। আমাকে নিয়ে সমস্যা বই সুবিধা কিছু নেই.. কষ্টই আছে। আমার অনেক বায়না যে.. আশা করি আত্মনির্ভরশীল সাথী সে পাবে। ওর সাথে রাতজাগা যুক্তিতক্কো গুলো খুব মিস করি, মনে পড়ে।
ওপারের লেখিকার নতুন বই টা না হয়েছে পড়া এপারের লেখিকার সঙ্গে না হচ্ছে দেখা বই টা নিতে।
কাল আবার অনেক কাজ। ম্যানেজার মানুষ টা রোজ ফোন করে ঘুম থেকে তোলে আমায়, ভেতরে ভেতরে আমাকে স্নেহই করে আমি বুঝি, কিন্তু খুব rude.আরেকটু নরম হলেই পারে.. মানুষ টা খুব ভালো। অনেক লোড়ে আজ এইখানে এসে পৌছিয়েছে,rudeness তো আসবেই.. লড়াই সবাইকে রূঢ় করে তোলে...
মা বাবার সম্পর্ক আর আগের মতন হয়তো হবে না কোনোদিন। শুধু দায়িত্ব টাই রয়ে গেছে ওদের মধ্যে
২০ বছর পুরোনো বান্ধবী টির সঙ্গে ওকোষ্যাৎ এরকম দেখা হবে unexpected ছিল.. না হলেই ভালো হতো, আরো ভালো হতো ওর নাচ এর ভিডিও টা না দেখলে,
আমার হৃদয় যে কত দিকে দিখণ্ডিত কেউ জানলে judge করে বসবে দুশ্চরিত্র বলে। খুব একটা ভুল হবে না. তবে ছোট্টবেলার "crush" তো purity বলতে ঐটাই..
আমার বেস্ট friend দেবলীন টা আর ফিরবে না বিদেশ থেকে ওখানেই সেটেলড সে, ওকেও খুব মিস করি...একমাত্র তনয় রয়েছে সেই ক্লাস 6 থেকে ওকে বেস্ট friend বলা যায়না.. ওর জায়গা অন্যরকম। ও ওই নীল night lamp টার মতন।
সবার জীবনে অনেক যুদ্ধ সবাই লড়ছে, পড়ছে, ভাঙছে। আবার উঠছে আবার লড়ছে। কোনো একদিন সবাই যদি একসাথে মিলে সবার যুদ্ধ গুলোকে এক করে লড়া যেত বেশ হতো.. সবাই, সবাই সবাইকে বোঝেনা যে। বিস্বাস করেনা কেউ কাউকে।..
তাই বন্ধু ফিরবেনা। মা আর কালকে কথা টা তুলবে না। বাবা শুধু ছাদের বাগানে পায়চারি করবে। ম্যানেজার ঘুম থেকে তুলে বলবে এত ঘুমোলে কি করে হবে কাজ টা করে দাও একটু.. Tinder এর বান্ধবী আমাকে attitude ওয়ালা ছেলে ভেবে নিয়ে unmatch করবে। ২০ বছরের মুছে যাওয়া crush নিজের সংসার নিয়ে ব্যস্ত থাকবে। লেখিকা রা নিজেদের ব্যস্ত জীবন নিয়ে। দেবলীন আর তনয় ওদের অফিস নিয়ে লড়ে যাবে। আর পারমিতা ফোন করবে না.....

ঘুম আসছে.. কাল রাত্রেও আসবে।

-ঋতজ্যোতি রায় 

Comments

Popular posts from this blog

বাষ্প

ঐযে আকাশ মেঘ, ওকে আমি বলেছি আমার মনের কথা কিছু টা শুনে একপশলা কেঁদে চলে গেছে। এখন আকাশে ঝলমলে রোদ সোঁদা মাটির গন্ধে মিলচ্ছে কথা গুলো বাষ্প হয়ে।। -ঋতজ্যোতি রায় 

পুরোনো পৃথিবী থেকে।

  প্রিয়, ​শীত আজ আমাকে কোণঠাসা করে দিয়েছে... ভিড় থেকে অনেক দূরে, অন্ধকার রাস্তায় পাথরগুলো গুনতে গুনতে আজ তোমাকে লিখছি। মনে আছে আমাদের কথা? আমরা সেই সন্ধিক্ষণের সন্তান, সেই '৮৮-র প্রজন্ম, যারা ধুলোমাখা শৈশব আর মনের গহীনে এক অদ্ভুত নিস্তব্ধতা নিয়ে বড় হয়েছি। ​আমি সেই স্পর্শ টা মিস করি। খুব মিস করি সেই কঠিন সময়টাকে, যখন তোমাকে ভালোবাসা এত সহজ সুলভ ছিল না। ​মনে পড়ে সেই নোকিয়া ফোনের শক্ত রাবারের কি-প্যাড? একটা 'C' লেখার জন্য তিনবার বোতাম টিপতে হতো, শুধু তোমাকে এটুকু বোঝাতে যে আমি তোমার কথা ভাবছি। তখন তো আর 'অটোকারেক্ট' ছিল না যে আমার ব্যাকুলতাকে মসৃণ করে দেবে, ছিল না কোনো 'প্রেডিক্টিভ টেক্সট' যা বলার আগেই আমার মনের কথা বুঝে যাবে। প্রতিটি শব্দের পেছনে একটা যত্ন ছিল, একটা সময় খরচ হতো। প্রতিটি মেসেজে লেগে থাকত আঙুলের স্পর্শ। ​তখন হাতে কোনো ম্যাপ ছিল না, মাথার ওপর ছিল না কোনো স্যাটেলাইট। সম্বল শুধু আমরা একে অন্যকে। আমরা তো হারিয়ে যেতাম—শহরের অলিগলিতে, খোলা মাঠে, আড্ডায়, তর্কে। হারিয়ে যাওয়াটাই ছিল আমাদের বিলাসিতা। তখন আমরা একে অপরের চোখের দিকে তাকাতাম, কোনো স্ক্রিনের দ...

​মৃত্যুর মুখোমুখি | Standing Before Death

 ​১৯৩১ সালের ২৩শে মার্চ। লাহোর সেন্ট্রাল জেল। ফাঁসির মঞ্চ প্রস্তুত, হাতে সময় মাত্র কয়েক মিনিট। অথচ কক্ষের ভেতরে এক তরুণ বিপ্লবী নিমগ্ন হয়ে পড়ছেন একটি বই। কারারক্ষী যখন ডাকতে এলেন, সেই তরুণ নির্ভীক চিত্তে উত্তর দিয়েছিলেন— "দাঁড়ান, একজন বিপ্লবী আর একজন বিপ্লবীর সাথে কথা বলছে।" সেই তরুণ ছিলেন শহীদ-ই-আজম ভগত সিং, আর তাঁর হাতের সেই শেষ সঙ্গীটি ছিল ভ্লাদিমির লেনিনের একটি জীবনী। মৃত্যুর আগের মুহূর্ত পর্যন্ত যে আদর্শ একজন মানুষকে সাহস জোগাতে পারে, সেই নামই হলো লেনিন। ​লেনিন কেবল একটি নাম নয়, লেনিন হলো শোষিত মানুষের ঘুরে দাঁড়ানোর শব্দ। তিনি শিখিয়েছেন যে রাষ্ট্র ব্যবস্থা কেবল ধনীদের পাহারাদার হতে পারে না; সাধারণ শ্রমিক, কৃষক আর মেহনতি মানুষেরও অধিকার আছে রাষ্ট্র পরিচালনার। তাঁর রাজনীতি কোনো ড্রয়িংরুমের চর্চা নয়, বরং তা হলো অন্যায়ের বিরুদ্ধে গর্জে ওঠা শ্রমজীবী মানুষের এক বলিষ্ঠ কণ্ঠস্বর। আজ যখন কোনো গরিব মানুষ তার হকের লড়াই লড়ে, সেই লড়াইয়ের অনুপ্রেরণায় মিশে থাকেন লেনিন। ​কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় যে, বাংলার মাটিতে আজ কিছু অশিক্ষিত ও সংস্কৃতিহীন উন্মত্ত গোষ্ঠী তাদের পেশীশক্তি জাহির কর...