Skip to main content

দুই বুলেভার্ড দূরে



Discovery চ্যানেল টা খুলে রেখেছিলো শর্মিষ্ঠা।
ডকুমেন্টরি তে যা দেখাচ্ছিল তা হোলো পুরুষ দের মধ্যে যৌন চাহিদা এতটা প্রকট ভাবে বেরিয়ে আসে কেন. বক্তা যেই তথ্যটি দিলেন সেটি হোলো অনেকটা এরকম

"During spermatogenesis, your testicles make several million sperm per day — about 1,500 per second. By the end of a full sperm production cycle, you can regenerate up to 8 billion sperm.

This may seem like overkill, but you release anywhere from 20 to 300 million sperm cells in a single milliliter of semen."

অতএব এই manufacturing পদ্ধতি বজায় রাখার জন্যেই পুরুষ দের বায়োলজি ওই রকম.. বক্তা একজন মহিলা ও এই কথা গুলো বলার সময় বেশ হাসি মুখেই বলে চলেছিলেন তিনি একটানা .. শর্মিষ্ঠা বেশ ছোট থেকেই নারীবাদী, তার বক্তা কে দেখে বেশ রাগ ই হোলো এক প্রকার। কেন যেন মনেহলো ওর যে কি অদ্ভুত ভাবে সালেসী করছে মহিলা টি পুরুষ দের হয়ে।

শুধু কি পুরুষ দের চাহিদা থাকে মেয়ে দের থাকেনা! মেয়ে রা সেই চাহিদা নিবারণ করবার উদ্যোগ নিতে পারেনা কোনো ভাবে! নিলেই তার চরিত্রে দাগ পরে যাবে! "ব্লাডি patriarchy".. বলেই সে উঠে দাঁড়ালো..

আজ এক বন্ধুর বাড়ি তে পার্টি আছে whole night আড্ডা আর কিছু খাওয়া দাওয়া..

তার বেশ কয়েকবার "breakup" হয়েছে.. কিছু ক্ষেত্রে ছেলে গুলো কে immatured লেগেছে কিছু ক্ষেত্রে ছেলে গুলো সিরিয়াস ছিল না আর কিছু ক্ষেত্রে দুজনেই যাকে বলে ওই "casual সেক্স stuff"

তার মধ্যে একজন কে তার সত্যি ই মনে ধরেছিলো, বরং তার সঙ্গেই ওই সেক্স ব্যাপার টি ঘটেনি.. ছেলে টা খুবই লাজুক প্রকৃতির ছিল যে। যাইহোক কোন ড্রেস টা পরে যাবে সেই নিয়ে ভাববার আছে।


তাঁদের বাড়ির দুটো রাস্তা পেরোলেই কলকাতার নাম করা এশিয়ার সব থেকে বড়ো নিষিদ্ধপল্লি। নুপুর সেখানকার ই মেয়ে। আজ কাস্টমার নেই সেরকম অনেক দিন ধরেই নেই.. লোকডাউন এর দৌলতে। খুব চিন্তায় আছে। ছোট বোন এর পড়াশোনার খরচা যে করে হোক জোগাড় করতে হবে.. আপাতত গিয়ে ওই fountain পেন আর paperkraft এর নোটবুক টা কিনে আনতে হবে.. বোন এর বায়না অনেকদিন এর।

দোকানে তার যেতে ইচ্ছা করেনা, বাজে ব্যবহার পায় সে অনেক ক্ষেত্রে.. "কি চাই বল তাড়াতাড়ি ".. বা "শোরে দাড়া তো একটু" কথা গুলো ওর খুব গায়ে লাগে। বোঝে কোন জায়গা থেকে কথা গুলো তার দিকে ওরকম তাচ্ছিলের স্বরে আসে, তাই ওই কানা বুবাই কেই ও বেশিরভাগ ক্ষেত্রে আনতে বলে দেয়, আজ যাবে সে কারণ আজ জিনিস গুলো বোন এর খুব সাধের।...

ট্যাক্সি থেকে যখন শর্মী আর ছেলে টা নামলো শর্মীর বেশ নেশা হয়ে আছে ছেলেটিও খুব একটা সুস্থ নয়, ওর মধ্যেই যা হয়ে ট্যাক্সির পেছনের সিট এ একটু দুজন দুজন কে স্পর্শ করা কিছু স্পর্শকাতর অংশে.. কিছু চুম্বন, কিছু অন্যরকম আদর.. ড্রাইভার আড় চোখে rear mirror দিয়ে বারবার তাকাচ্ছিলো দেখে শর্মী শুনিয়ে শুনিয়ে বলেছিলো "আজ কাকুর রাতের খোরাক হয়ে গেছে ".. দুজনে বেশ হেসেছিলো কথা টায়.. তবুও ড্রাইভার কাকু যখন দেখলো এদের গাড়ি থেকে নামাতে গেলে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিতেই হবে আর তাই নিজে নেমে পেছনের দরজা খুলে দেওয়ার সময় ছেলেটি বলে উঠেছিল "its ok we can handle it " ড্রাইভার কাকু মৃদু গলায় "ok sir, ok mam " বলে ফিরে এসে গাড়ি স্টার্ট দিতে দিতে "goodnight" বলতেও ভোলেননি..

"এত পেন খাতা নিচ্ছিস যে - টিচার হয়ে গেলি নাকি, বাপরে " - খাতা বই এর দোকান এর লোকটা ঠিক এই ভাবেই আজকেও ব্যঙ্গ করতে ছাড়লো না নুপুর এর প্রতি.. খারাপ লাগলো খুবই তাও দুটো জিনিষই পাওয়া গেছে ওনার দোকানে, পেন আর নোটবুক,তাই হাসি মুখেই "আসি কাকু" বলে ধীরে ধীরে আধো আলো আধো অন্ধকার গলি টাই বেছে নিলো নুপুর "বাড়ি" ফেরার জন্যে..



-ঋতজ্যোতি রায় 

Comments

Popular posts from this blog

বাষ্প

ঐযে আকাশ মেঘ, ওকে আমি বলেছি আমার মনের কথা কিছু টা শুনে একপশলা কেঁদে চলে গেছে। এখন আকাশে ঝলমলে রোদ সোঁদা মাটির গন্ধে মিলচ্ছে কথা গুলো বাষ্প হয়ে।। -ঋতজ্যোতি রায় 

পুরোনো পৃথিবী থেকে।

  প্রিয়, ​শীত আজ আমাকে কোণঠাসা করে দিয়েছে... ভিড় থেকে অনেক দূরে, অন্ধকার রাস্তায় পাথরগুলো গুনতে গুনতে আজ তোমাকে লিখছি। মনে আছে আমাদের কথা? আমরা সেই সন্ধিক্ষণের সন্তান, সেই '৮৮-র প্রজন্ম, যারা ধুলোমাখা শৈশব আর মনের গহীনে এক অদ্ভুত নিস্তব্ধতা নিয়ে বড় হয়েছি। ​আমি সেই স্পর্শ টা মিস করি। খুব মিস করি সেই কঠিন সময়টাকে, যখন তোমাকে ভালোবাসা এত সহজ সুলভ ছিল না। ​মনে পড়ে সেই নোকিয়া ফোনের শক্ত রাবারের কি-প্যাড? একটা 'C' লেখার জন্য তিনবার বোতাম টিপতে হতো, শুধু তোমাকে এটুকু বোঝাতে যে আমি তোমার কথা ভাবছি। তখন তো আর 'অটোকারেক্ট' ছিল না যে আমার ব্যাকুলতাকে মসৃণ করে দেবে, ছিল না কোনো 'প্রেডিক্টিভ টেক্সট' যা বলার আগেই আমার মনের কথা বুঝে যাবে। প্রতিটি শব্দের পেছনে একটা যত্ন ছিল, একটা সময় খরচ হতো। প্রতিটি মেসেজে লেগে থাকত আঙুলের স্পর্শ। ​তখন হাতে কোনো ম্যাপ ছিল না, মাথার ওপর ছিল না কোনো স্যাটেলাইট। সম্বল শুধু আমরা একে অন্যকে। আমরা তো হারিয়ে যেতাম—শহরের অলিগলিতে, খোলা মাঠে, আড্ডায়, তর্কে। হারিয়ে যাওয়াটাই ছিল আমাদের বিলাসিতা। তখন আমরা একে অপরের চোখের দিকে তাকাতাম, কোনো স্ক্রিনের দ...

এপার ওপার

ভালোবাসার দিবস, সোমবার। সকাল থেকে অফিস এর কাজ গুলো পাতার ওপর ভারী বর্ষার জল বিন্দুর মতন আসছে আর ভার রাখতে না পেরে নুইয়ে পড়ছে একটু একটু করে।  মনের মধ্যে এক অবাস্তব, অসম্ভব ইচ্ছের জ্বালায় অস্বস্থিকর এক মেজাজ এর সৃষ্টি হয়েছে। ধরুন এক হেরে যাওয়া সৈনিক , শত্রুপক্ষের সীমান্তের গন্ডি তে আটকে পড়েছে এবং সে জানে আর কিছুক্ষন এর অপেক্ষা তারপরেই সে ধরা পড়বে শত্রুর হাতে এবং হয়তো শাহিদ হবে তার আপনজন দের শেষবারের মতন না দেখেই,অথচ মন কিছুতেই মানছে না এই পরাজয়, বলছে না আরেকটু লড়, আরো কিছুক্ষন, কিছুদিন বাঁচো। সে যে তখন কি করবে বুঝে পায়না... আত্মসমর্পণ না গা ঢাকা দেওয়া না বন্দুক উঠিয়ে অপেক্ষায় থাকা... তেমনি.. যে ভালোবাসা পাওয়া যাবেনা কোনোদিন নিজের মতন করে, এক প্রকার অসম্ভব, যদি না আল্লাহ তালা, ঈশ্বর, গড এনাদের মধ্যে কেউ কিছু গভীর শড়যন্ত্রের মাধ্যমে তা পাইয়ে দেন, তবে কেনোই বা ওনারা এত কষ্ট নেবেন একজন যেকোনো মানুষ এর জন্যে? সত্য ভালোবাসে আলো কে। সে আলোর রোজকার অবহেলা অনুভব করে নিজের মতন কোরে... আলোর রোজকার না পাওয়া গুলোকে পাইয়ে দিতে তার মন একপ্রকার দু-টুকরো হয়ে ছুটে যেতে চায় আলোর কাছে.. দুপু...