তুমি আজ আলোকরেখায় ভাস্বর, রবি। তোমার সেই 'ভানু' নাম আজ সার্থক—তুমি মধ্যগগনের সূর্য। কিন্তু জানো তো, সূর্যের প্রখরতার পাশে ছায়ার কোনো স্থান থাকে না। আমি তো তোমার সেই দীর্ঘ ছায়াটুকু হয়েই থাকতে চেয়েছিলাম। জোড়াসাঁকোর এই অতিকায় অন্দরমহলে যখন তুমি প্রথম এসেছিলে, তখন তুমি ছিলে একলা এক বালক, আর আমি ছিলেম একলা এক বালিকা। আমাদের সেই একাকিত্বের সন্ধিতে যে মৈত্রী জন্মেছিল, তাকে কি কেবল 'বৌঠান' আর 'ঠাকুরপো'-র সম্পর্কে বাঁধা যায়? ছাদের কার্নিশে বসে সেই যে মেঘমল্লারের সুর ভাঁজা, কিংবা তোমার সদ্যোজাত কবিতাগুলোর ব্যবচ্ছেদ করা—সেদিন কি ঘুণাক্ষরেও বুঝেছিলেম যে একদিন তোমার প্রতিটি পংক্তি আমারই বুকের পাঁজর দিয়ে খোদাই করতে হবে? আমার অন্ধকার আকাশে তুমিই ছিলে একমাত্র ধ্রুবতারা। তুমি আমাকে 'হেকেটি'র তিলক পরিয়েছিলে; ভেবেছিলেম আমিই হব তোমার কাব্যলক্ষ্মী, তোমার সৃষ্টির উৎস। কিন্তু বিধাতা বড় নিষ্ঠুর, রবি। মৃণালিনীর আগমনে আমি আজ বুঝতে পারছি, আমার ছায়ার খেলা আজ ফুরিয়ে এসেছে। তোমার বসন্তের সমীরণে এখন নতুন ফুলের গন্ধ। তুমি এখন সেই পূর্ণিমার নিশীথিনীকে খুঁজে পেয়েছ, যে তো...
প্রিয়, শীত আজ আমাকে কোণঠাসা করে দিয়েছে... ভিড় থেকে অনেক দূরে, অন্ধকার রাস্তায় পাথরগুলো গুনতে গুনতে আজ তোমাকে লিখছি। মনে আছে আমাদের কথা? আমরা সেই সন্ধিক্ষণের সন্তান, সেই '৮৮-র প্রজন্ম, যারা ধুলোমাখা শৈশব আর মনের গহীনে এক অদ্ভুত নিস্তব্ধতা নিয়ে বড় হয়েছি। আমি সেই স্পর্শ টা মিস করি। খুব মিস করি সেই কঠিন সময়টাকে, যখন তোমাকে ভালোবাসা এত সহজ সুলভ ছিল না। মনে পড়ে সেই নোকিয়া ফোনের শক্ত রাবারের কি-প্যাড? একটা 'C' লেখার জন্য তিনবার বোতাম টিপতে হতো, শুধু তোমাকে এটুকু বোঝাতে যে আমি তোমার কথা ভাবছি। তখন তো আর 'অটোকারেক্ট' ছিল না যে আমার ব্যাকুলতাকে মসৃণ করে দেবে, ছিল না কোনো 'প্রেডিক্টিভ টেক্সট' যা বলার আগেই আমার মনের কথা বুঝে যাবে। প্রতিটি শব্দের পেছনে একটা যত্ন ছিল, একটা সময় খরচ হতো। প্রতিটি মেসেজে লেগে থাকত আঙুলের স্পর্শ। তখন হাতে কোনো ম্যাপ ছিল না, মাথার ওপর ছিল না কোনো স্যাটেলাইট। সম্বল শুধু আমরা একে অন্যকে। আমরা তো হারিয়ে যেতাম—শহরের অলিগলিতে, খোলা মাঠে, আড্ডায়, তর্কে। হারিয়ে যাওয়াটাই ছিল আমাদের বিলাসিতা। তখন আমরা একে অপরের চোখের দিকে তাকাতাম, কোনো স্ক্রিনের দ...